শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩:২৯

বড় ধরনের পতনের মুখে স্বর্ণের বাজার

বড় ধরনের পতনের মুখে স্বর্ণের বাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমায় বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান এই ধাতুর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৫ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমে আসে। এর ফলে পুরো সপ্তাহ মিলিয়ে স্বর্ণের দামের পতন হয়েছে প্রায় তিন দশমিক তিন শতাংশ। একই সঙ্গে মার্কিন বাজারে গোল্ড ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭৩ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ডলার ও বন্ডের সুদের চাপ

বিদায়ী সপ্তাহে মার্কিন ডলারের দর মাঝে কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে তা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর্থিক বাজারে সাধারণত বন্ডের সুদ বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা অন্যান্য আয়ের উৎসের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। যদিও শুক্রবার মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্য প্রকাশের পর শুরুতে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

মার্কিন শ্রম বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে নন-ফার্ম পেরোল বা নতুন কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার, যা আগস্ট মাসের সংশোধিত ১ লাখ ৩৩ হাজার এবং রয়টার্সের পূর্বাভাসকৃত ৯০ হাজার অর্জনের চেয়ে বেশ কম। শ্রমবাজারের এই ধীরগতি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নির্ধারণের কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি মাসের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। সাম্প্রতিক নরম মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং অক্টোবর মাসে আরও এক দফা সুদ বাড়ানোর বিপক্ষে অন্তত দুজন শীর্ষ নীতিনির্ধারকের অবস্থান এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ২২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে বাইবিট-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান সতর্ক করে বলেছেন যে, ফেডের নীতিতে কড়াকড়ির মনোভাব পুরোপুরি কেটে গেছে এমনটা ভেবে এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।

দাম কি আরও কমবে?

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উঁচুতে ধরে রাখতে পারে। সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। 

মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ারের মতে, বাজারের বর্তমান চার্ট বিশ্লেষণ করলে স্বর্ণের দামের দুর্বল অবস্থাই দেখা যায় এবং সুদের হারের চক্র যদি ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর অবস্থা

স্বর্ণের পাশাপাশি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন ঘটেছে। স্পট রুপার দাম এক দশমিক এক শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম এক দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯২ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৬৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্বর্ণ, রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়াম চারটি প্রধান ধাতুই সপ্তাহ শেষে পতনের মুখে শেষ করেছে। সূত্র: রয়টার্স

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে।